কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যহত

এহসানুল হোসেন তাইফুর নিজস্ব প্রতিবেদক
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছতায় খন্ডকালীন কর্মচারী রেখে কোন রকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরিস্কার পরিচ্ছতার কার্যক্রম। ইউনিয়ন গুলোতেও চিকিৎসা সেবারও অবস্থা একই রকম। কর্তৃপক্ষ বলছেন দ্রæত চিকিৎসক পাওয়া সম্ভব হলেও কর্মচারী পেতে দেরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মঞ্জুরিকৃত ১৯৮ জনের বিপরীতে ১২৮ জন নিয়ে চলছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিশেষজ্ঞসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ১৯ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।
যশোর সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। পার্শ্ববর্তী যশোর সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। কেশবপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে ৭৩ হাজার ১২০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর রোগী ভর্তি করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৪ জনকে। সিজার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় রোগীরা ফিরে গিয়ে এ সময়ের মধ্যে শহরের ৬টি বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫৪ জন রোগী। সিজার ও অন্যান্যসহ ছোট বড় মোট ৪ হাজার ১৬৬ জনকে অপারেশন করা হয় এসব ক্লিনিকে।
চিকিৎসক সংকট ছাড়াও কর্মকর্তা কর্মচারী সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিশ্চিত করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র কনসালটেন্টসহ ৩২ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৯ জন। ৭৮টি তৃতীয় শ্রেণীর পদের বিপরীতে শুণ্য রয়েছে ৩৫টি। আর চতুর্থ শ্রেণীর ২২টি পদের বিপরীতে শুণ্য রয়েছে ৯টি পদ। এছাড়াও ত্রিমোহিনী, সাগরদাড়ি, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সহকারী সার্জন ও স্যাকমোর ১৮টি পদের মধ্যে ১২টি পদ শুণ্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর অধিকাংশ পদ শুণ্য থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক ডাক্তার পাওয়া যায় না। যারা আছেন তাদের পক্ষেও এত রোগীর চিকিৎসা দেয়া অসম্ভব। যে কারণে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘন্টা রোগীতে অপেক্ষা করতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বরত ডাক্তার আহসানুল মিজান রুমি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিনই ৮০ থেকে ১০০ জন œ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন। গত বুধবারও ৮০ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হারুন-অর-রশীদ রূপসানিউজকে জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ১৯৮টি থাকলেও শুণ্য রয়েছে ৭০টি পদ। যশোর সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। কেশবপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্য সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কথা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য খন্ডকালীন ৫ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রেখে কোন রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে দ্রæত চিকিৎসক পাওয়ার সম্ভবনা থাকলেও কর্মচারী পেতে দেরি হবে।

 

Views: 99