তালা উপজেলা ছাত্রদলের পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ঃ
তালা উপজেলা ছাত্রদলের পকেট কমিটি গঠনের জোর পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র দলের কমিটি দেয়ার কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারনী মহল ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে সপ্তাহ খানিকের মধ্যে তালা উপজেলা ছাত্রদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহবায়ক কমিটির নাম ঘোষণা হতে পারে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়।
এদিকে তালা উপজেলা ছাত্র দলের কমিটি দেয়াকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা, স্থানীয় নেতাদের বাড়ি বাড়ি ধন্যা আর কাঁদা ছোড়া ছুড়ির একাধিক অভিযোগ। স্থানীয় নেতারা মনে করেন, তালা উপজেলা ছাত্র দল বরাবরই কেন্দ্র ঘোষিত সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে আসছে। যদি পোড় খাওয়া, ত্যাগী, মামলা হামলার শিকার ছাত্র নেতাদের দিয়ে কমিটি দেয়া যায় তবে আগামী দিনের দলের জন্য আর্শিবাদ বয়ে আনবে। আবার অনেকে মনে করেন তালা উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল এমনকি বিএনপির রাজনীতি স্বজন প্রীতি আর তোষামোদীতেই সীমাবদ্ধ। যে যেমন যে নেতা চামচামি করতে পারবে তার জন্য দলের বড় পদ বাগিয়ে নিতে সুগম হবে।

তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, উপজেলা ছাত্রদল কমিটির প্রথম সারিতেই যাদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে তার অধিকাংশই বিতর্কিত। ফলে রাজপথ কাপানো, পোড় খাওয়া নির্যাতিত ছেলেরাই ক্ষোভে, অভিমানে স্বজনপ্রীতিকারী নেতাদের মুখে পদাঘাত করে দল থেকে আজীবনের জন্য নির্বাসিত হতে চান।
বিতর্কিত ছাত্র নেতাদের মধ্যে জোরেশোরে সম্পাদকের তালিকায় রিজভীর নাম শোনা গেলেও উপজেলার অধিকাংশ নেতাদের কাছে অতি-অপ্রিয়। দলীয় রুল অনুযায়ী ছাত্রত্বহীন এবং নেশামুক্ত উল্লেখ থাকলেও উভয়ই তার মধ্যে বিদ্যমান। অনুসন্ধানে রিজভীর একাধিক অপকর্মের প্রমাণও দেখা মেলে। সদ্য বিদায়ী রাজপথ কাপানো কারাবরণকারী নেতা এ.বি.এম সেলিম রেজা বলেন, কর্মীরাই যদি না মানে তবে এমন কাউকে দলের জৈষ্ঠ্য পদে স্থান দেওয়া ঠিক হবে না। নেতার থেকে কর্মীদের গুনাবলী বেশি থাকলে দলের মাঝে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। এতে ঘন ঘন আলিপুর যাতায়াত সুবিধা হবে। অভিযোগ উঠেছে তালিকায় থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান মনিকে নিয়ে। ছাত্রত্বহীন, ড্রাইভার মনির নামে নেই কোন মামলা হামলা। স্থানীয় জনৈয়ক নেতার ইন্ধনে তার পদ পেতে ঘামছুটানো লাগছে না বলে স্থানীয় নেতাদের অভিমত। এমনকি বিভাগীয় টিমের সম্মেলনে উপজেলার কোন প্রার্থীও সে ছিল না। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়হীন, ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে সমন্বয়হীন মাগুরার এস.কে ফারুককে নিয়ে। ছাত্রত্বহীন নেশামুক্ত বিতর্কিত ছাত্রনেতাদের নিয়ে যখন চলছে কমিটি দেয়ার চেষ্টা ঠিক তখনই বুকে ক্ষোভ নিয়ে বেঁকে বসেছেন ত্যাগী নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্র নেতা মনে করেন, বিগতদিনে রিজভী ছাত্রদলের কোন সদস্য ছিল না। নেই কোন মামলা হামলা। হঠাৎ উত্থানী দলের আজ বড় নেতা। সম্পাদক প্রার্থী আব্দুস সালাম বলেন, দল করে কী লাভ। দলের জন্য মামলা হামলার শিকার হয়ে অনাদর আর অবহেলা ছাড়া কিছুই পেলাম না। ৩ বার জেল খেটেছি। পুলিশ আমাকে না পেয়ে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে দু’হাত ভেঙ্গে দেয় এমন দুঃখ ভারাক্রান্ত ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী তালিকায় আবির হোসেন, সালমান ফারদিন সোহেল, আলামিন, রাসেল আব্রাহাম জজ প্রমুখ। কথিত আছে সম্পাদক প্রার্থী রিজভী জেলা ছাত্রদলের সম্পাদক মমতাজুল ইসলামের চন্দনের বোনকে রিজভীর বাড়ির পার্শ্বে বিয়ের সুবাদে ক্যারেটে করে মাছ আর কালো টাকা দিয়ে পদ পেতে পাকাপোক্ত হয়ে আছে। এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, বিতর্কিত ছাত্রনেতাদের পদে না আনায় দলের জন্য মঙ্গল হবে। সদ্য বিদায়ী তালা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান বলেন, বিতর্কিত নেতাদের নেতৃত্বে আনলে কেউ মেনে নেবে না। উল্টো নীতি নির্ধারিত নেতারাই বিতর্কিত হবেন। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে খান নাজমুল হুসাইন, আবু মুহিত, সামরুল ইসলাম মিলন বলেন, কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী নেতাদের অনুরোধক্রমে স্থানীয় নেতাদের কথার মূল্যায়ন করে বানিজ্য ছাড়াই ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হোক।

 

 

রূপসা নিউজ /আক্তার হোসেন

Views: 36