মান্দার শ্রীজীব মাষ্টারের গান গাওয়া নেশা থেকে আজ পেশায় পরিনত

মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ গানের মাষ্টার হিসেবে পরিচিত শ্রীজীব চন্দ্র সরকার (৭০) নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৬নং মৈনম ইউনিয়নের দক্ষিণ মৈনম (অযোদ্ধাপাড়া) গ্রামের মৃত শ্রীচরণ সরকারের ছেলে। বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী পবিত্রা সরকার একজন গৃহিনী এবং এক কন্যা লিপি সরকার,যাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে জামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে বলে জানাগেছে।

১৯৬৮ সালে তিনি মৈনম বহুমুখী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ এবং ১৯৭০ সালে মান্দা মমিন শাহানা ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ১৯৭৩ সালে দক্ষিণ মৈনম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন তিনি । এরপর ১৯৭৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চাকুরী করাবস্থায় ১৯৯৮ সালে তিনি পাঁজরভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদন্নোতি লাভ করেন। দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর গত ২০০৯ সালে তিনি চাকুরী থেকে অবসর নেন।

গীতিকার,সুরকার,সঙ্গীত শিল্পী এবং একজন প্রসিদ্ধ গানের মাষ্টার হিসেবে সাংস্কৃতিক আঙ্গনে রয়েছে শ্রীজীব মাষ্টারের যথেষ্ট সুনাম। গত ২০ বছর যাবৎ মান্দার সতিহাট বাজারে অবস্থিত “শান্তি সাংস্কৃতিক শিল্পী গোষ্ঠী’র এবং বর্তমানে সরকার অনুমোদিত “কিশোর-কিশোরী ক্লাব”-এর সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত যারা গান শিখেছেন, তাদের মধ্য থেকে গানের প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে প্রায় শতাধিক কন্ঠশিল্পী আজ উপজেলা-জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে চাম্পিয়ন হতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শ্রীজীব মাষ্টার বলেন, একই এলাকার সুরযন্ত্র বাদক ভগ্নীপতি মৃত কার্তিক চন্দ্র প্রামানিকের অনুপ্রেরনায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই কৃতিত্ব হিসেবে নিজে হারমুনিয়াম/ ডুগি-তবলা বাজিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত,পল্লীগীতি,লালনগীতি,ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি-সারি, দেশাত্মবোধকসহ বিভিন্ন ধরণের আধুনিক গান পূঁজা পার্বন এবং স্কুল-থিয়েটারে পরিবেশনের পাশাপাশি যাত্রাপালায় অভিনয় করে অর্ধ শতাধিক পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়াও “শান্তি সাংস্কৃতিক শিল্পী গোষ্ঠী’র তরফ থেকে রাজশাহী বেতারে গিয়েও একাধিকবার গান পরিবেশন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন বলেও জানান তিনি। গ্রামীণ যাত্রাপালায় নায়কের ভ‚মিকায় তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য যাত্রাপালাগুলো হচ্ছে- নাচমহল,মা- মাটি-মানুষ,কলঙ্কিনী বধূ,সোনাই দীঘি এবং মোঘলে আযম ইত্যাদি।

সংস্কৃতি চর্চায় ছোটবেলা থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা তার পছন্দনীয় কাজ। শ্রীজীব মাষ্টারের গান গাওয়া নেশা থেকে আজ পেশায় পরিনত। মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত গানের জগতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি জানান, যদি সরকারিভাবে কোন সুযোগ সুবিধা পান তাহলে জীবনের ক্রান্তিলগ্নে নিজের প্রতিভাগুলো প্রকাশকরা সম্ভব হবে তার। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অসহযোগীতার কারণে এসব সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। এসব সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এখনই সময়! এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

 

রূপসা নিউজ /আক্তার হোসেন

Views: 20